অনলাইন কম্পিউটার নজরদারি

Online computer surveillance,computer,online compute
Online computer surveillance

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাইবার অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআইএসডি) 20 ডিসেম্বর এক নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে 10 টি সংস্থা যে কোনো কম্পিউটার ওপর নজরদারি চালাতে পারবে এবং কম্পিউটারে আসা এবং প্রেরিত তথ্যগুলি পরীক্ষা করে দেখতে পারবে। যে আইনের ধারা অনুসারে এই 10 সংস্থাকে নজরদারি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা আসলে 2009 সালে ইউপিএ সরকারের আমল থেকে কার্যকর রয়েছে। আইনটির বাস্তবিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেই বোঝা সম্ভব এই আইনের মূল উদ্দেশ্য কি এবং কেন। এই নজরদারি এক নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে যাতে অনলাইন তথ্য আদান-প্রদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়। আর এসবই দুর্নীতি রোধের কথা মনে রেখে। আইটি অ্যাক্ট 2000  কে পূনমার্জন করে নতুন আইন যখন তৈরি হয় 2009 সালের ফেব্রুয়ারিতে তখন ধারা 69 যাতে এই কম্পিউটার নজরদারির বিষয়ে উল্লেখিত ছিল এই নিয়ে সমালোচনা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। এই আইনের মূল ভীত ভারতীয় সংবিধানের ধারা 19 যাতে নাগরিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি রয়েছে ।দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার খাতিরে তথা প্রতিরক্ষা প্রদেশের সুরক্ষা বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা এবং এইসব বিষয়ে সন্ত্রাসী মনোভাব এবং ব্যবহার ঠেকানোই আইনটির মূল কথা। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই নির্দেশিকা বহাল থাকলেও এর কোনও অপব্যবহারের নজির নেই। আবার এই কম্পিউটার নজরদারির প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় খুবই সীমিত। বলা আছে প্রত্যেকটি নজরদারির ঘটনায় বৈধতা সম্পর্কে অনুমতি প্রদান করবে যোগ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং রাজ্যের বিষয় গৃহসচিব। এমনকি জরুরি অবস্থার সময় ও যদি যোগ্য কতৃপক্ষকে জানানো সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে অন্য কোন অধিকারই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তারও উল্লেখ রয়েছে। তেমন ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ দেখে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করে সাত দিনের মধ্যে যোগ্য কতৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রাজ্যের এক্তিয়ার বহির্ভূত নজরদারির প্রয়োজনে রাজ্যকে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে অবহিত করতে হবে আর তেমন অবস্থায় কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকই উপযুক্ত নির্দেশ জারি করতে পারবে।
আবার প্রতি দু'মাসে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির নেতৃত্বে রিভিউ কমিটি বিষয়গুলি বিবেচনা করে দেখবে। রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে চিফ সেক্রেটারি তা দেখবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব কেবল 10 টি সংস্থার নাম উল্লেখ করেছেন যেসব সংস্থা দেশব্যাপী কম্পিউটার নজরদারির কাজ পরিচালনা করবে। এটি নতুনভাবে কোন ক্ষমতা ও প্রধান নয় 27 শে অক্টোবর 2009 এর আইটি  আইন অনুসরন মাএ।এই আইনের সেকশন 4 যোগ্য সংস্থার নাম উল্লেখের অনুমতি দিয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিশেষ করে সিআইএসডি এতদিন থেকে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে সাইবার ক্রাইম ঠেকানোর প্রয়োজনে। এ কথা অনস্বীকার্য যে দেশের অভ্যন্তরে থাকা এক শ্রেণীর শক্তিকে পর্যুদস্ত করতে সাইবার সিকিউরিটি প্রতি বিশেষ নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment

0 Comments