রোবট তৈরি করলো চীন

china robot,robot,China,
china robot

প্রযুক্তির উন্নতি হতে হতে এমন পর্যায়ে গেছে যে মানুষ নিজের সৃষ্টির কাছে হার মেনে যাচ্ছে। আর এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে চীন ও জাপান। মিডিয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীন এমন একটি কান্ড ঘটেছে যা দেখে অবাক হয়ে গেছেন সমগ্র বিশ্ব। প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংবাদ উপস্থাপক নিয়ে এসে ব্যাপক হইচই ফেলে দিয়েছে চীন। যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থাপক দিয়ে করানো হচ্ছে সংবাদ আর এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটিকে বাস্তবায়িত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া।সম্প্রতি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে পঞ্চম বিশ্ব ইন্টারনেট সম্মেলন হয়, সেখানে একটি কৃত্তিম উপস্থাপককে সকলের সামনে হাজির করা হয়। আর বলাই বাহুল্য তা সকলের  মুখে সুনাম শুনেছেন। প্রযুক্তির দুনিয়ায় চীনের এখন তুঙ্গে বৃহস্পতি বলেও খুব একটা ভুল হবে না কয়েকদিন আগে কৃত্রিম চাপ তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন তারা। আবার সেই আলোচনা ও কৌতূহল মিটতে না মিটতেই কৃত্রিম সংবাদ উপস্থাপক তৈরি করল চীন নিজের দেশে।
বরং সারা পৃথিবীর কাছে একটা বড়সড় চমক রাখল চীন। কেমন ছিল সেই কৃত্রিম উপস্থাপক ?একঝলক দেখে মানে হবে য়ে তার মধ্যে যে কৃত্রিমতা আছে তা বোঝা যাবে না। এই কৃত্রিম উপস্থাপকের পরনে ছিল চিরাচরিত স্যুট ও টাই আর গলায় আওয়াজ টা ছিল রোবটের মতো। তবে অনেকে আবার একটু অন্যভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন এই উপস্থাপকের চেহারা আর গলার আওয়াজ একেবারে পুরুষের মতো। তবে অবাক হয়ে যেতে হয় তার চেহারার অভিব্যক্তি দেখলে। একেবারেই আসল মানুষের মতো। কোন খবর এর সময়ে কিরকম অভিব্যক্তি দিতে হবে সেটা যখন সে দিচ্ছিল তখন অনেকেই অবাক হয়ে যান।

কিভাবে কাজ করে এই কৃত্রিম উপস্থাপক? বিভিন্ন সংবাদ এর ভিডিও দেখে নিজে আগে শিখে নেন, তারপরে যেভাবে সে খবর পড়েন, তা একজন পেশাদার সংবাদ উপস্থাপক কেউ মাঝে মধ্যে মনে হয় হার মানাচ্ছে। তবে এর জন্য প্রশংসা প্রাপ্য দুটি সংস্থা সিনহুয়া এবং চীনের অন্যতম জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন কম্পানি সোগোউ ডটকম। তাদের এই প্রযুক্তি সফল হবে কি না তা নিয়ে গবেষকরা ব্যাপক চিন্তায় ছিলেন। সেজন্য সরাসরি টিভিতে বসানোর আগে কয়েকদফা ট্রায়াল দেওয়া হয়। উপস্থাপক শুরুতেই বলেন হ্যালো ইউ আর ওয়াচিং ইংলিশ নিউজ প্রোগ্রাম যা শুনে অনেকে আশ্চর্য হয়ে যান। এত সাবলীল ও স্বাভাবিক ছিল তা। তারপরে বলেন, আমি আপনাদের সংবাদ জানাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। আপনাদের নতুন ধরনের সংবাদের অভিজ্ঞতা দেওয়াই আমার কাজ। এই কথা শুনে অনেকেই অবাক হয়ে পড়ে। এই উপস্থাপক ইংরেজিতে শুধুমাত্র কথা বলতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা হল ক্রমাগত খবর পড়তে পড়তে এ কখনো ক্লান্ত হবে না।
ফলে রাতদিনই একে কাজে লাগানো যাবে। নিজের পক্ষ থেকে এ কিত্তেন উপস্থাপক সকলকে আশ্বস্ত করছেন ক্লান্তিহীনভাবে তিনি সংবাদ পরিবেশনের মতো কাজ একনিষ্টভাবে করে যাবেন। তার সিস্টেমে যখনই সে তথ্য আসবে তখনই তিনি সেই তথ্য সকলের সঙ্গে শেয়ার করবেন। নিঃসন্দেহে সংবাদ মাধ্যমে এটা একটা যুগান্তকারী অভিজ্ঞতা। সিনহুয়া জানিয়েছে এই কৃত্রিম উপস্থাপক 24 ঘন্টা কাজ করতে সক্ষম। এর ক্লান্তি নেই আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল একে মাইনে দিতে হবে না। এর ফলে মিডিয়ার ব্যয় আরো কমবে। এরকম আরো কৃত্রিম উপস্থাপক তৈরি ব্যাপারে চীনা সংস্থা দুটি মনোনিবেশ করছে।

Post a Comment

0 Comments