অতিরিক্ত সেলফি তোলায় হতে পারে অসুখ

Selfi Disease,selfi,Mobile,Socalmedia,facebook ,Whatsapp,Twitter
Selfi Disease

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ আজকাল স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক ব্যস্ত সময় কাটিয়ে থাকেন। পাশাপাশি স্মার্ট ফোন দিয়ে ছবি তোলায়ও ব্যস্ত থাকেন। প্রতিদিন  সেলফি তোলা এখন আর ফ্যাশন নয় যেন রুটিন। যেমন দেখা যায় নতুন চাকরি থেকে শুরু করে বিয়ে বাড়ি মন খারাপ মন ভালো নতুন পোশাক ক্রয় করা থেকে সবখানেই সেলফি। শুরুতে সেলফি ব্যাপারটা মেয়েদের থাকলেও এখন ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। কিন্তু মূলত এই ধরনের অবসেসিভ ডিসঅর্ডারের  জন্য এই সেলফি তোলেন মানুষ। আর তা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিপদজনক সেলফি তোলা থেকে বিরত নয়। তাতে প্রাণও যাচ্ছে তবুও হুশ ফেরে না।

এবার এই সেলফি তোলার প্রবণতা কি অসুস্থতা হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকান সাইক্রিয়াটিক অ্যাসোসিয়েশন একদল গবেষক তাদের গবেষণা শেষ প্রকাশ করেছেন সেলফি তোলা একটি মানসিক রোগ। এই গবেষক দল সেলফিতে আক্রান্ত হওয়া রোগের নাম দিয়েছে সেলফাইটিস। গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন এই সেলফাইটিস রোগের তিনটি ধাপ ধাপগুলো হলো।

বর্ডার লাইন সেলফাইটিস 

এই ধাপে আক্রান্তকারীরা দিনে অত্যন্ত তিনটি সেলফি তুলবেন এবং ছবিগুলো নিজের কাছে রেখে দেবেন। কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না।

একিউট সেলফাইটিস 

 এই ধাপে আক্রান্তরা তিনটি সেলফি তুলবেন। আর তিনটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন।

ক্রনিক সেলফাইটিস 

এ ধরনের আক্রান্তকারিরা সারাদিন নিয়ন্ত্রনহীন তাড়না কিংবা ইচ্ছা থেকে বিরামহীনভাবে যখন তখন সেলফি তুলবেন আর সেইসঙ্গে দিনে অত্যন্ত 6 টি বা এর বেশি সেলফি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন।

 গবেষকরা বলেছেন সেলফিজনিত এ ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে নিজের প্রতি যত্নবান হতে হবে। পাশাপাশি ভার্চুয়াল জীবনের সামাজিক জীবনের সময় কাটাতে হবে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এই সমস্যা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অস্ট্রেলীয় একদল গবেষকের মতে সেলফি তোলার রোগীরা শুধু সেলফি তুলেই ক্ষান্ত হন না তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার না করা পর্যন্ত স্বস্তি পান না। এমনকি তাদের ছবিতে ভার্চুয়াল বন্ধুদের মন্তব্য আশা করে এই মন্তব্যের সূত্র ধরে তারা নিজেদের বিচার করা শুরু করলেই তা ক্রনিক সেলফাইটিস রূপ নেয়। এভাবে ব্যক্তি তার নিজের অবস্থান ভুলে গিয়ে অন্যের বক্তব্য এর ওপর বেশি নির্ভর করতে থাকেন। যাতে করে নিজের প্রতি বিশ্বাস ও মর্যাদা কমতে থাকে দিনকে দিন। এরপর ব্যক্তি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও দুর্বল হয়ে যান।
অন্যদিকে মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন যারা খুব বেশি সেলফি তোলেন তারা সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি হীনতার পরিচয় প্রকাশ করেন। গবেষকরা আরো বলেছেন সেলফিতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই কর্মজীবন ও ব্যক্তি জীবনে ব্যর্থতার পরিচয় হয়। সাধারণের তুলনায় তাদের কনফিডেন্ট কম থাকে। তাই তারা অনেক সময় হতাশ কিংবা মেন্টাল ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন। সুতরাং যাদের খুব বেশি সেলফি তুলতে ব্যাস্থ থাকেন তাদের অবশ্যই মনোচিকিৎসার প্রয়োজন।

Post a Comment

0 Comments